গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, ঋণ খেলাপির শঙ্কা তিন ব্যবসায়ীদের
BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Aug 5, 2026
স্টাফ রিপোর্টার: উৎপাদনমুখী শিল্পে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়া, রপ্তানি ব্যাহত হওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের কর্মহীনতা এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে অক্ষমতার মতো নানা সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ তিন ব্যবসায়ী নেতা। তারা দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন এবং শিল্পবান্ধব নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে দেশের অনেক নিট পোশাক কারখানা বর্তমানে স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানার উৎপাদন দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় কারখানাগুলোকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে উদ্যোক্তারা একদিকে উৎপাদন ক্ষতি, অন্যদিকে আর্থিক লোকসানের দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন।
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য প্রস্তুত করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন কিংবা বিমানযোগে (এয়ার শিপমেন্ট) পণ্য পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ে সম্ভাব্য মুনাফা প্রায় পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি এম সোলায়মান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ধারাবাহিক প্রভাবে দেশের প্রায় ১৫০টি স্পিনিং মিল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মাধবদী, নরসিংদী, শেখেরচর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের অধিকাংশ তাঁত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ তাঁতি ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। একসময় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় মিলগুলো সরবরাহ করলেও বর্তমানে সেই সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টার্নওভার ট্যাক্সের সমালোচনা করে এম সোলায়মান বলেন, উৎপাদন সংকটের মধ্যেই ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। যেখানে লাভের পরিমাণ সীমিত, সেখানে ব্যাংক লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত কর ব্যবসা পরিচালনাকে আরও কঠিন করে তুলবে। তিনি সরকারের প্রতি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধান এবং টার্নওভার ট্যাক্স পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের টেক্সটাইল, স্পিনিং ও তাঁত শিল্প ভয়াবহ ধসের মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতিতে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পুরোপুরি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদনই ব্যাহত করে না, বিদেশি বিনিয়োগকেও নিরুৎসাহিত করে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এখনো দায়িত্ব গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, সরকার যদি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্র ও সরকার উভয়কেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই শিল্প ও বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, দেশের রপ্তানি আয়, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একই সঙ্গে শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, কর-সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়-বাণিজ্য বিভাগের আরো খবর
-
রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় রনিকে চায় নেতাকর্মীরা
-
শিক্ষাখাতকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে হবে: এমপি আজাদ
-
অপহরণের ঘটনা আড়াল করতে জুয়েলের স্ট্যান্ডবাজি
-
নিহতের পরিবারকে সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দিলেন এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ
-
পার্লারের কর্মী সেজে দুই গৃহবধূর স্বর্ণালঙ্কার লুট
-
প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে হত্যা মামলার আসামি আবু সুফিয়ান
-
রূপগঞ্জে ১১০৭ বোতল এসকাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
-
বিএনপির দিলুকে ফাঁসাতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্র
-
সন্ত্রাসী জাহিদ বাহিনীর তান্ডবে বাড়ছে আতঙ্ক
-
ফজলুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগে ব্যবসায়ী সোহাগের অভিনন্দন
-
অপহরণের ঘটনা আড়াল করতে জুয়েলের স্ট্যান্ডবাজি
-
নিহতের পরিবারকে সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দিলেন এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ
-
পার্লারের কর্মী সেজে দুই গৃহবধূর স্বর্ণালঙ্কার লুট
-
রূপগঞ্জে ১১০৭ বোতল এসকাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
-
সন্ত্রাসী জাহিদ বাহিনীর তান্ডবে বাড়ছে আতঙ্ক
-
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ
-
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সীমান্ত হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
-
পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলি, অস্ত্র সহ আটক ২
-
ফতুল্লায় নারী নির্যাতন মামলার আসামি রাসেল গ্রেপ্তার
-
জাকির খানের সাথে সাক্ষাৎ করলেন দেওভোগ মাদ্রাসার ছাত্র প্রতিনিধিরা
আপনার মতামত লিখুন :